গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে হামলার একটি মামলায় পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম মাহবুব আলী সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে সোহেলের পরিবারের দাবি, তিনি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার ঘটনায় হামলার শিকার শিবলী নামে এক যুবক বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি মঞ্জু
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট সকালে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মোড় এলাকায় শিবলী নামে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, উলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত অন্তর ও তার সহযোগীরা শিবলীর ওপর ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় শিবলীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর অন্তরকে আহত দেখিয়ে তার চাচা এবং উলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও উলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুল মোল্লা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
মামলায় গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এমএইচ খান মঞ্জুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বিএনপি নেতা এম মাহবুব আলী সোহেলকে করা হয়েছে দুই নম্বর আসামি।
‘ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না সোহেল’
গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা সোহেলের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, ওই সময় সোহেল গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের বাসায় অবস্থান করছিলেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হীরা, জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুদ্দিন লিপটন ও সাধারণ সম্পাদক রাসেকুজ্জামান পলাশসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা একই দাবি করেছেন।
পরিবারের দাবি, সংসদ সদস্যের বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে অন্য একটি স্থান থেকে সোহেলকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, হামলার সময় বিএনপি নেতাদের দেখা যায়নি
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী, সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্তর ও তার সহযোগীরা শিবলীর ওপর হামলা চালালে তিনি কয়েকজনকে নিয়ে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
তার দাবি, শিবলীকে রক্ষা করতে যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও মারধর করে পালিয়ে যায়।
ওই জনপ্রতিনিধি আরও দাবি করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে এম এমএইচ খান মঞ্জু, বিএনপি নেতা এম মাহবুব আলী সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো. মাহমুদ কবির, ইফতি, ইভান, ইকরাম মিনা, হৃদয় ফকির ও ইমনসহ অন্যদের কাউকে তিনি দেখতে পাননি।
তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘শিবলীকে কোপানোর সময় অন্তরও আহত হয়’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এমন আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি দাবি করেন, অন্তর, মাহাফুজ মোল্লাসহ কয়েকজন শিবলীকে কোপানোর সময় অন্তরের ডান হাতের কনুইয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ লাগে। এতে অন্তর আহত হন বলে ওই ব্যক্তি দাবি করেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাহমুদ কবিরের দাবি, তিনিও ষড়যন্ত্রের শিকার
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো. মাহমুদ কবির আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজে শহরের পোস্ট অফিস এলাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি দাবি করেন, শিবলী পল্লী বিদ্যুৎ মোড় অতিক্রম করে উলপুরের দিকে যাওয়ার সময় অন্তর, মাহাফুজ মোল্লাসহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় শিবলীকে কুপিয়ে ও মারধর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহমুদ কবির বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমাকে এবং অন্য নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।’
মামলায় রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা
এদিকে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একাধিক নেতা-কর্মীর নাম আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে মামলার বাদী তরিকুল মোল্লা উলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করা হলেও বাদীপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
শিবলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক
হামলায় গুরুতর আহত শিবলী বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি নেতা এম মাহবুব আলী সোহেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলার বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম