
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় সদর উপজেলার দশমাইল এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল সোমবার রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে জানতে পারে, একটি আন্তজেলা ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় সদরের দশমাইল এলাকায় মাইক্রোবাস যোগে প্রবেশ করেছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সংলগ্ন পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের আড়ালে একটি পুরোনো সাদা রঙের নিশান মাইক্রোবাস তল্লাশি করা হয়।
এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে ডাকাত দলের দুই সদস্য প্রদীপ রায় (৩৮) ও মো. জহুরুল ইসলাম (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার হওয়া দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে এবং জানায়, তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৮ সদস্য দশমাইল এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে আরও ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অপর ৮ জন হলেন-
মো. নুর ইসলাম পাচকেল (৬০), মো. আ. সালাম (৫৮), মো. খায়রুল ইসলাম (৪৫), মো. বাবুল হোসেন (৫৪), মো. ফারুক (৩০), মো. আ. মান্নান (৪০), মো. আবু সুমন (৩০) ও মো. মমিন ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আরও স্বীকার করে যে, তারা ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও ধারালো অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের চেকরমারী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পাথর গ্যারেজ অফিসের সামনে আমগাছের নিচে বালুর ঢিবিতে লুকিয়ে রেখেছে।
পরে আসামিদের উপস্থিতিতে ওই স্থান থেকে বালুর ঢিবি খনন করে উদ্ধার করা হয় একটি বড় ধারালো ছুরি, একটি মাঝারি ছুরি, দুটি কাটার মেশিন, দুটি সিরিঞ্জ, একটি প্লাস, কাটার ব্লেড, বিভিন্ন ধরনের হ্যাক্স ব্লেড, লোহার তৈরি তারকাটা যন্ত্র, নাট খোলার রেঞ্জ, বিভিন্ন সাইজের গুটি, পলিথিন, রশি, দুটি টর্চলাইট এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদে জেলার বিভিন্ন স্থানে আগেও ডাকাতি সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জাম নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম