
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাঙ্গামাটি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ মোঃ সায়েমকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের বিভিন্ন এমপি–মন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে তিনি নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, দলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, সায়েম তাদের পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে জেল–জুলুমের শিকার করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সায়েম তাদের মন্ত্রী–এমপিদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ এখনও তিনি যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আগামী কাউন্সিলে আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাঙ্গামাটি জেলা যুবদল, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম বিব্রত এবং ক্ষুব্ধ। তারা অবিলম্বে সায়েমকে দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে দলের কর্মীদের হয়রানি করেছে, তার যুবদলের শীর্ষ পদে থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাদের আশঙ্কা, সায়েমের মতো সুবিধাভোগী নেতা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা আরও হতাশ হবেন।
বিগত স্বৈরাচার সরকারের বিভিন্ন নেতা ও এমপির সাথে আবু সাদাৎ মোঃ সায়েমের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে তোলপাড় নেট অঙ্গন। এসব ছবি ও ভিডিওতে সায়েমকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেছে।
যুবদলের রাজনীতি করলেও সায়েমের চলাফেরা–ওঠাবসা ছিল যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সাথে। তার সার্বক্ষণিক চলাফেরা রাঙ্গামাটি জেলা যুব লীগের সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর সাথে।
বিশেষত, বিগত রাঙ্গামাটি পৌর নির্বাচনের সময় দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সায়েম প্রকাশ্যে ও প্রত্যক্ষভাবে আকবর হোসেন চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
সূত্র জানিয়েছে, রাঙ্গামাটি জেলা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ, যুব লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের শাস্তি থেকে বাঁচাতে এবং তাদের পুনর্বাসিত করতে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে, রাঙামাটি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ মোঃ সায়েমের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। রাঙামাটি জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ নুর নবীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুটা অবগত। সে বিভিন্ন সময়ে যুবলীগ–আওয়ামী লীগের সাথে যোগসাজশে ছিল। সে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে, বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ও পৌর মেয়র নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে সরাসরি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে তাদের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে। এ কারণে যুবদলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।“
জেলা বিএনপির একাধিক প্রবীণ নেতাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দলের স্বার্থে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দল থেকে বের করে দেওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়, দলের হাইকমান্ড এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা এবং রাঙ্গামাটি জেলা যুবদলের আগামী কাউন্সিলে এর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম