
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নে (ইউপি) কুন্দাইন মাঠে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকুপ অপারেটর রবিউল ইসলাম বুলারের বিরুদ্ধে রি-বোরিং ও সেচ চার্জের নামে কৃষকের কাছে থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচন্দর ইউপির জেল নম্বর ৯৯ কুন্দাইন মৌজার ৬২৭ নম্বর দাগে একটি গভীর রয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, সম্প্রতি রহস্যজনক কারণে স্কীমভুক্ত কৃষকদের মতামত উপেক্ষা করে বৈধ অপারেটর মোজাহার আলীকে অপসারণ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় কুন্দাইন গ্রামের মৃত আব্দুল গাফফারের পুত্র রবিউল ইসলাম বুলারকে নতুন করে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের ঘনিষ্ঠ সহচর বুলার। সেই সুবাদে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাব বিস্তার এবং কৃষকদের জিম্মি করে রি-বোরিং ও সেচ চার্জ আদায়ের নামে রীতিমতো চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।
এদিকে ১ জানুয়ারী সোমবার অপারেটর বুলারের অপসারণ, স্কীমভুক্ত কৃষকের মতামতের ভিত্তিতে নতুন অপারেটর নিয়োগ ও সমিতির মাধ্যমে গভীর নলকুপ পরিচালনার দাবিতে বিএমডিএ'র চেয়ারম্যান, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী প্রকৌশলী তানোর জোন বরাবর ২৫ জন কৃষক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উক্ত গভীর নলকুপ স্কীমে ২৫০ বিঘা জমি রয়েছে। রি-বোরিং করার নামে কৃষকের কাছে থেকে বিঘা প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা করে ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। অথচ রি-বোরিং করার জন্য অফিসে এক লাখ টাকা জমা দিতে হয়। প্রতি বিঘা আলুখেতে সেচ চার্জ হিসেবে এক হাজার ৭০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। বিএমডিএ'র বড় কর্মকর্তা হুইল দিয়ে বুলারের পুকুরে মাছ শিকার করেছেন এর জন্য তিনি কৃষকের কাছে থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
এদিকে বিভিন্ন ভুয়া খাত দেখিয়ে ব্যয় দেখিয়েছেন বুলার। যার মধ্যে রি-বোরিং করার জন্য যাতায়াত বাবদ ৩০ হাজার টাকা। কর্মকর্তাদের মাছ শিকার ৪০ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ লাইন টানা এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। নতুন ট্রান্স ফরমার ৩টি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ৫টি টেস্ট বোরিং ৪০ হাজার টাকা। বোরিং বাবদ জমা এক লাখ টাকা। কুয়াকাটা বোরিং বালু তোলা ৬০ হাজার টাকা ও ট্রান্সফরমার ১টি ৭ হাজার টাকা ইত্যাদি।
স্থানীয়রা জানান, স্কীমভুক্ত কৃষকের আপত্তি উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে বুলার অপারেটর হবার পর থেকে কৃষকদের হয়রানি-দুর্ভোগ বেড়েছে। তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের দাপট দেখিয়ে ড্রেন মেরামত, লাইনম্যান ভাতা, ট্রান্সফরমার মেরামত, ভোল্টেজ বাড়ানো, নৈশপ্রহরী ভাতা, অফিস খরচ ইত্যাদি নানা অজুহাতে কৃষকদের কাছে থেকে জোরপুর্বক টাকা আদায় করছেন।
এছাড়াও তিনি গভীর নলকূপের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব কাউকে দেন না।কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি সমিতির মাধ্যমে গভীর নলকুপ পরিচালনার করা হোক।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অপারেটর রবিউল ইসলাম বুলার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষকের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, কয়েকবার ট্রান্সফরমার পুড়েছে, এছাড়াও নতুন লাইন টানা, ট্র্যাংক নির্মাণ, ড্রেন মেরামতসহ নানা কাজে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকের মতামত নিয়েই প্রতি বিঘায় সেচ চার্জ এক হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এবং রি-বোরিং এর জন্য বিঘা প্রতি ৩৫০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এবিষয়ে বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম