
মইনুল ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ- সমাবেশ সফলে তিনদিন আগে থেকেই ফরিদপুরে জড়ো হতে থাকে বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র সমাবেশ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিএনপি’র এ সমাবেশের জবাব ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখানে বিকেলে আয়োজিত সম্মেলনে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে ‘আপ্লুত’ হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও।
তবে ব্যবধান বাধা পেরুনোর আর নির্বিঘ্নে উপস্থিত হওয়ার। বিএনপি নেতা-কর্মীরা বাধা পেরিয়ে তিনদিনে এলেও মাত্র তিনঘন্টাতেই আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয় নির্বিঘ্নে আসতে পারা নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিত হওয়া দলের শীর্ষ দুই নেতা ওবায়দুল কাদের ও মাহবুব উল হানিফ বক্তব্য দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। ফরিদপুরে বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমাবেশে থাকেন।
শুধু উপস্থিতি দিয়ে নয়। কথায়ও বিএনপিকে জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফরিদপুরে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আর খেলতে দেওয়া হবে না।’ আর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আওয়ামী লীগ বলেছে, ‘নির্বাচন নিয়ে খেলা হবে।’ তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আগামী দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার বিএনপি’র কথার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ বলেছে, ‘তারেক জিয়া দেশে এলেই ৩৭ বছরের জেল খাটার ব্যবস্থা করা হবে।’
শনিবার বেলা তিনটায় নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উদ্বোধকের বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ডাকে খেলা হবে বলে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক যোগাযোগ সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি। বেলা তিনটা ৪০ মিনিট থেকে তিনটা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত দেওয়া বক্তব্যে ওয়ায়দুল কাদের বেশ কয়েকবার খেলা হবে শব্দ দু’টি উচ্চারণ করেন। সম্মেলনের হাজার হাজার উপস্থিতি এ শব্দ দুটি বেশ উপভোগ করেন।
ফরিদপুরের সমাবেশে দেশে আর নির্বাচনী নিয়ে খেলা খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। তারেক জিয়ার নেতৃত্ব গুণ নিয়ে প্রশংসা করা হয়। গত এক যুগে এ সরকারের আমলে ১০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। আওয়ামী লীগ জোর করে, বন্দুক-পিস্তল ব্যবহার করে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে, খুন-গুম করে ক্ষমতায় টিকে আছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এসবের প্রতিটি কথারই জবাব আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্মেলনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে। তাঁদের বেশির ভাগ বক্তব্যই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে। এবারের খেলায় জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে বলে এ সময় উল্লেখ করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত সম্মেলন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। খেলা হবে তারেকের বিরুদ্ধে। খেলা হবে নির্বাচনের। খেলায় ফাউল করলে লাল কার্ড দেখানো হয়। বিএনপি বেশি লাফালাফি করছে। জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে।’ ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে নিজেই শ্লোগান ধরেন। এ সময় ‘শেখ হাসিনার সরকার আরেকবার দরকার’, নৌকা ও শেখ হাসিনা শ্লোগানে মুখরিত হয় স্টেডিয়াম এলাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এম.পি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারেক এ দেশে আসুক। সে এলে সাজার ৩৭ বছরের জেল খাটার ব্যবস্থা করবো। সে এমন অপকর্ম করেছে যে দেশে এলে তো গণপিটুনিতে মারা যাবে।’
বিএনপি’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এরা হলো মুচলেকা পার্টি। খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া মুচলেকা দিয়েছে আর রাজনীতি করবেন না। এখন নির্বাচনের আগেই মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে। আমরা নই, অপকর্মের কারণে তারাই দেশ থেকে পালাবে। তাদের নেত্রী বলেছে জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হয়েছে। এটা দিয়ে তারা যাবে না। এখন এ সেতু পার হয়েই বিএনপি নেতারা ফরিদপুরে গেছে।’
বিশেষ অতিথি প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। বিএনপি আমাদেরকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর রাজনীতি করছে। ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়। এদেশে আর তত্বাবধায়ক সরকার হবে না।’
প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি আবার গেছে উঠেছে। তারা বলেছে টেক ব্যাক বাংলাদেশ। কিন্তু তারা বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় সে জবাব দিতে পারেনি। সময় এসেছে ঘরে ঘরে গিয়ে উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরার। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে।’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকার। আওয়ামী লীগ নেতা মাঈন উদ্দিন মঈনের ও মনির হোসেনের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এম.পি, সুজিত রায় নন্দী, আব্দুস সবুর, পারভীন জামান কল্পনা, ক্যাপ্টেন (অব.) ড. এ বি তাজুল ইসলাম এম.পি।
সম্মেলনের শেষ দিকে ঘোষণা করা আংশিক কমিটিতে পুরোনোদেরই বহাল রাখা হয়। সভাপতি হিসেবে র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল-মামুন সরকার, সহ-সভাপতি হিসেবে মো. হেলাল উদ্দিন (সাবেক মেয়র), মো. হেলাল উদ্দিন (পুনিয়াউট) ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টুর নাম ষোষণা করা হয়। ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম