
রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের তালন্দ লোলিত মোহন ডিগ্রী কলেজে জালিয়াতি ও শর্ত দিয়ে কর্মচারি নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। কথা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মেয়র ইমরুল হকের ছোট ভাই সোহেল রানা শর্ত দিয়ে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন। কিন্ত্ত নয় বছরেও শর্ত পুরুণ না করেই রানা সরকারী কোষোগার থেকে বেতনভাতা উত্তোলন ও হজম করছে, যেটা ফৌজদারি অপরাধের সামিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, কলেজ সভাপতি (তৎকালীন) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে অবৈধভাবে রানাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এদিকে ঘটনা ফাঁস হলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে একই সঙ্গে নিয়োগ বোর্ডের জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন সুশিল সমাজ ও শিক্ষক মহল।
জানা গেছে, বিগত ২০১২ সালে তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেওয়া হয় সোহেল রানাকে। কিন্ত্ত তার লাইব্রেরিয়ান সনদ না থাকায় নিয়োগ বোর্ডকে শর্ত দেন চাকরি পাবার তিন বছরের মধ্যে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাযথ সনদ অর্জন করবেন এই শর্ত সাপেক্ষে ২০১৪ সালের ১ মার্চ তার এমপিও ভুক্তি হয়। তার ইনডেক্স নম্বর-৩০৮৯৪১৪। আরো জানা গেছে, কেবল জানুয়ারি-২০১৩ পর্যন্ত যোগদানকারী এবং এমপিও ভুক্তির আবেদনকারীদের জন্য সুপারিশ করে ২২ অক্টোবর ২০১৩ খ্রিঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয়,বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা থেকে একটি পরিপত্র জারী করা হয় যার স্বারক নম্বর-শিম/শা-১৩/বিবিধ-২/দারুল ইহসান বিশ্ব/২০১৩/ উক্ত পরিপত্রের (গ) এর ৪ নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে, এমপিও ভুক্তির পরবর্তী তিন শিক্ষা বর্ষের মধ্যে লাইব্রেরী সায়েন্সে যথাযথ সনদ অর্জনে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল বলে গন্য হবে। অথচ তালন্দ লোলিত মোহন ডিগ্রী কলেজের সহকারী লাইব্রেরীয়ান মোঃ সোহেল রানা তিন বছরের শর্ত দিয়ে চাকরি নিয়ে নয় বছরেও শর্ত পুরুণ করতে পারেনি। এতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে তার এমপিও বন্ধ হবার কথা। অথচ সোহেল রানা প্রভাববিস্তার করে এখানো এমপিওর টাকা উত্তোলন করছেন যা ফৌজদারি অপরাধের সামিল।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার বলেন,
সোহেল রানার দারুল ইহসানের সার্টিফিকেট, তিনি ওই সময় শর্ত দিয়েছিলেন তিন বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোর্স করে সার্টিফিকেট দিবেন, তবে এতো দিনেও তিনি সার্টিফিকেট দিতে পারেননি কেনো সেটা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। তবে শর্ত দিয়ে কি নিয়োগ হয়, আর ডিজির প্রতিনিধি ছিলেন কে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতদিন হয়ে গেল তার কিছুই মনে নেই। তিনি বলেন, এবিষয়ে রানাকে একাধিকবার বলা হয়েছে, তবে সে আমাদের কথার কোনো গুরুত্ব দেননি। এবিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমাকে কেনো ফোন দিয়েছ, কলেজ থেকে যা জানার প্রয়োজন তা জেনে নিও। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এমন শর্ত দিয়ে চাকরি হবার কোনো সুযোগ নাই। এবিষয়ে তালন্দ কলেজের (তৎকালীন) সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এটা অনেক আগের কথা তার সঠিক মনে নেয়। তবে তিনি বলেন, যদি শর্ত দিয়ে চাকরি নিয়ে শর্ত পুরুণে ব্যর্থ হয়,তাহলে নিয়মানুযায়ী চাকরিচ্যুত হবে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম