
বিশেষ প্রতিনিধি, শাজাহানপুর (বগুড়া) -ঃ বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় এসএসসি. দাখিল, দাখিল ভোকেশনাল এবং ভোকেশনাল পরীক্ষা গ্রহন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৫সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট ২ঘন্টা টানা পরীক্ষা গ্রহন চলে। অসাদু উপায় অবলম্বনের দায়ে কোন শিক্ষার্থীকে বহিস্কারের ঘটনা ঘটেনাই। তবে এক নারী পরীক্ষার্থীর সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০১নাম্বার কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নিন্দার ঝড় ওঠে।
শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এসএসসি পরীক্ষায় মোট কেন্দ্র আছে ৪টি কেন্দ্রে মোট ২৯শত ৪৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯শত ৩ ১জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট ১২জন পরীক্ষার্থী অনুপুস্থিত ছিলো। দাখিল ২টি পরীক্ষা কেন্দ্র মোট ৯শত ৪০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯শত ২৬জন অংশ গ্রহন করে এবং ১৪জন অনুপুস্থিত ছিলো। ২টি ভোকেশনাল কেন্দ্রে ৩শত ১১জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২শত ৯৭জন অংশ গ্রহন করে এবং ১৪জন অনুপুস্থিত ছিলো। দাখিল ভোকেশনাল একটি কেন্দ্রে ১৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট ১৭জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে এবং ২জন অনুপুস্থিত ছিলো।
অসদাচরণের শিকার ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানান, আমি পিএসসি এবং জিএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। এবারে এএসসি পরীক্ষাতেও আমি ভালো ফলাফলের আশা রাখি। আমি আড়িযা রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০১নাম্বার কক্ষে এএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। পারিবারিক শিক্ষা থেকে আমি সব সময় বোরকা পরেই চলাচল করি। পরীক্ষা কেন্দ্রেও বোরকা পড়ে গিয়েছিলাম। আমার মত আরো কয়েক জন ওই কক্ষে বোরকা পরেই এসেছিলো। পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা চোপিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খায়রুজ্জামান আমার কাছে এসে বোরখা খুলে মুখ বের করতে বলেন। আমি সেটা করে আবারো মুখ ঢেকে নেই। কিন্তু শিক্ষক খায়রুজ্জামান আমাকে মুখ খুলে পরীক্ষা দিতে বলেন এবং আমাকে জেরা করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে আমাকে ধমকাতে শুরু করেন এবং বোরখা খুলে বসতে বলেন।
অভিযোগ ওঠা শিক্ষক খায়রুজ্জামান জানান, পরীক্ষার্থীর সাথে অসদাচরণ করেছি এটা মিথ্যা। পরীক্ষা হলে কয়েক জন ছাত্রী স্কার্ভ পড়ে এসেছিল আর একজন ছাত্রী ছিল যে পুরোটাই বোরকায় ঢাকা। কানে হেডফোন লাগানো থাকতে পারে তাই আমি ওই পরীক্ষার্থীকে মাথা থেকে বোরকা খুলে রাখতে বলেছি। পরীক্ষার্থীর সাথে থাকা প্রবেশ পত্রে তো পরীক্ষার্থীর নাম পিতার নাম থাকেই। আমি সেটাই জিজ্ঞেস করে যাচাই করেছি।
চোপিনগর গ্রামের অনেক অভিভাবক জানান, বছর খানেক আগে শিক্ষক খায়রুজ্জামান চোপিনগর স্কুলের এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছিলেন। তিনি ভোর থেকে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হওয়ার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়াতেন। শিক্ষার্থীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই তার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে।
জানতে চাইলে আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আগামী শনিবার দিন ওই পরীক্ষার্থী এবং ওই শিক্ষক খায়রুজ্জামানের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে সিদ্ধান্ত নেবো।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার(উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি) উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে এই রকম কোন ঘটনা আমি শুনিনাই। এই রকম কোন ঘটনা ঘটেছে তা আমার জানা নাই।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম