
মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা সংবাদদাতা -ঃ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আসক্তি বেড়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। আর প্রভাবের ফলে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মনযোগ কমেছে পাঠবইয়ে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন আগামীর জন্য ক্ষতিক্ষর বলে জানিয়েছেন শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও। ডিজিটাল প্রযুক্তি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়ার ইচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছে দিনদিন। ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলছে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃসঙ্গতা-একাকিত্বের অনুভূতিও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।
মহামারী করোনাকালে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুবিধার্থে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাঠদান চলেছে প্রায় দুই বছর। পিছিয়ে না পড়ে সে কারণে সরকার অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম ঘোষণা করেছিল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এমন উদ্যোগ প্রশংসনিয় ছিল। তবে ওই সময়ে পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই মোবাইল ফোনে আসক্ত। অনেক ছেলে-মেয়ে তাদের অভিভাবকদের কাছে জেদ ধরে স্মার্টফোন কিনে নিয়েছে। কতক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়লেও অনেকে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার জন্য ধার করে অথবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্মার্টফোন দিনে দিয়েছে। কিন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে কিছুটা পড়ালেখা করেই গেমস, ফেসবুক, ইউটিউব আর টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট আসক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা একাকিত্ব হয়ে পড়ছে।
বগুড়া সদরের শিকারপুর ডি.ইউ আলিম মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো বিষয়ের দুইটি সাইড থাকে। একটি ভালো দিক অপরটি হলো মন্দ দিক। করোনা মহামারীর শুরুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। তখন স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক আইডি অথবা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। অনলাইন পাঠদানের জন্য ল্যাপটপ, ডেস্কটপ নিজস্বভাবে ব্যবহার করেছিল সকলে। তবে স্মার্টফোন ছিল বাধ্যতামূলক।
জানা গেছে, গ্রামের পাশাপাশি অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। অনেকেই অনলাইন পাঠদানের জন্য স্মার্টফোন কিনতে পারেনি। তবে যারা স্মার্টফোন কিনতে পারেনি দলগতভাবে তাদের অনলাইন পাঠদানের আওতায় নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মন্দ দিকটি গ্রহণ করেছে।
শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, অনলাইন আসক্তির কারণে শিক্ষার্থীরা এখন শ্রেণীকক্ষেও অমনোযোগী। স্বভাব আচরণ সকলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। যে সকল শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে আসক্ত তারা ক্লাসে পাঠদানের সময় এবং বাড়িতে গিয়েও অভিভবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক স্বভাব দেখায়। অল্প বয়সে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন হাতে পেয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর স্বভাব-আচরণ মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
এ বিষয়ে একই প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ শিক্ষক মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ইন্টারনেট আসক্তির কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছে। তাদের নৈতিকতা মূল্যবোধ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখনো আমাদের শিক্ষকদের সাথে সাক্ষাত হলে মাথা নিচু করে সম্মান দিয়ে কথা বলি। কিন্ত ইন্টারনেটে আসক্তির কারণে এখনকার শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে করতে রাস্তা হাটে। সামনে পিছনে কিছু দেখে না। তার নজর থাকে শুধু মোবাইল ফোনের স্কিনে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি ভালো ফল বয়ে আনবে না আগামীতে।’
যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিল রিড তার গবেষণায় উল্লেখ করেন, যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের অতিরিক্ত নেশা আছে, তারা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইন্টারনেট আসক্ত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সও খুবই দুর্বল। ইন্টারনেট আসক্তরা শিক্ষাগত যোগ্যতার মানে পিছিয়ে থাকছেন।
গবেষকরা কলেজ শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক সমস্যার সম্পর্ক বুঝতে দুটো স্কেল ব্যবহার করেন। প্রথমটি ইন্টারনেট অ্যাডিকশন টেস্ট (আইএটি)। ১৯৯৮ সাল থেকে এ স্কেলের ব্যবহার চলে আসছে। দ্বিতীয়টি নতুন স্কেল, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন বুঝতে তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনে যারা অতিরিক্ত সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে।
ইন্টারনেটের ব্যবহার সম্পর্কে বিভিন্ন ছাত্রছাত্রিদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, ডিজিটাল দুনিয়ায় স্মার্টফোনের ব্যবহার সবাই এতটাই বেড়েছে যে আমরা যারা শিক্ষার্থী আছি তারাও এখন অনেক বেশি সময় নিচ্ছি। তবে অনেকেই জানায় ইন্টারনেটের ব্যবহার মূলত ভাল কাজের জন্য হলেও বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে বাজে কাজ করে সময় নষ্ট করে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম