
বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ লাকসামে আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলাকে কেন্দ্র করে মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয় ও অশ্বদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা রহমানিয়া চিরসবুজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও বিজরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অশ্বদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছে বলে মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।
খবর পেয়ে আহত শিক্ষার্থীদের বিজরা একটি প্রাইভেট হাসপাতালে দেখতে যান উভয় প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষ ও বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দরা। এসময় তারা আহতদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
হামলায় আহত হয়, মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজান সিরাজ,
শরীফ ও ছাত্র সাহিদুল ইসলাম, জিহাদ,হিমেল জাহিদসহ অন্তত ১৫ জন।এরমধ্যে জিহাদ ও শাহিদুলকে গুরুতর অবস্থায় লাকসাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়াও আহতদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষ জানায়, উপজেলার আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে মঙ্গলবার বিকালে রহমানিয়া চিরসবুজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয় ও অশ্বদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলা অংশগ্রহণ করে।
নির্ধারিত সময়ে অশ্বদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই গোল করে মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে। এদিকে পরবর্তী খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য অশ্বদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা উল্লাস করতে শুরু করে খেলার মাঠে। অশ্বদিয়া এক ছাত্র সাথে
আলী নওয়াব ছাত্রের সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।এতে উভয় পক্ষের বাগবিতণ্ডায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা দেখে রহমানিয়া চিরসবুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বলে দেয় কোন ছাত্র মাঠ থেকে বাহির না হয় সে জন্য গেটের তালা লাগিয়ে দেয় গেট ম্যান।
বিষয়টি উভয় প্রতিষ্ঠানের খবর ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
এতে শিক্ষকরা বাধা দিলে দুই শিক্ষকের উপর হামলা করে অশ্বদিয়া স্কুলে ছাত্র ও বহিরাগত শিক্ষার্থীরা।এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ কিছুক্ষণের জন্য থেমে থাকে। তবে কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষের উত্তেজনায় আবারও শুরু হয় সংঘর্ষ।এলাকায় ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এতে শিক্ষকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয়ের আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বিজরা বাজার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়
অশ্বদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে ছিলেন।
রহমানিয়া চিরসবুজ উচ্চ বিদ্যালয় প্রিন্সিপাল
আবুল খায়ের বলেন,বিষয়টি দুঃখজনক ছাত্ররা এভাবে হামলায় জড়িয়ে যাবে ভাবতেই পারিনি। এ ঘটনা নিয়ে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজরা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া বলেন, খবর পেয়ে বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দরাসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত আনার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, ছাত্রদের তুচ্ছ ঘটনায় হামলায় উভয় পক্ষই আহত হয়েছে।
মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয়ের আহত শিক্ষক শাহাজান সিরাজ বলেন, চিরসবুজ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খায় সেটা কেন্দ্র করে ছাত্রদের মধ্যে হামলা সৃষ্টি হয়, এতে আমরা বাঁধ দিলে বহিরাগত ছাত্র ও লোকজন আমাদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার
প্রসাদ কুমার ভাওয়ালের মুঠো ফোনে বার বার কল করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মেজবাহ উদ্দিন ভুইঁয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম