
মইনুল ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মাদরাসায় সকালে নির্যাতনের শিকার এক মাদরাসা ছাত্রের লাশ দুপুরে বাথরুম থেকে উদ্ধার হয়েছে। রবিবার পৌর এলাকার কাউতলীর ইব্রাহিমিয়া তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার বালক শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা ছাত্র মোহাম্মদ আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন সদর থানা পুলিশ। পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠা শিক্ষক হুসাইন আহমেদকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। জব্দ করা হয়েছে মাদরাসার সিসি ক্যামেরা সংশ্লিষ্ট যন্ত্র।

মাদরাসা ছাত্র মোহাম্মদ আলীর পিতা কাউতলী এলাকার কাউছার মিয়ার অভিযোগ, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। দুপুরে খাবার দিতে এসে একটি বাথরুমে ছেলের লাশ দেখতে পান। তখন তার পা মাটিতে লাগানো অবস্থায় ছিলো।
ঘটনার পর পর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা মাদরাসার গেইটে এসে ভিড় জমায়। আতঙ্ক দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও। মোহাম্মদ আলীর লাশ উদ্ধারের পর অভিভাবকরা এসে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীনসহ পুলিশ কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সরজমিনে গিয়ে পুলিশসহ একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদরাসায় ৭০-৭৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়। প্রতিদিন ভোর থেকেই তাদেরতে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়। অন্যান্য দিনের মতো রবিবারও ভোর থেকে সেখানে পড়ানো শুরু হয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুপুরে নামাজের পর তারা মোহাম্মদ আলীকে খোঁজে পাচ্ছিল না। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থী গিয়ে বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে শিক্ষকদেরকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
মাদরাসা শিক্ষক মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এর মধ্যে সামাইন নামে এক শিক্ষার্থী এসে আমাকে জানায় বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে দেখেছে। পরে অন্যরাও একই অবস্থা দেখতে পেলে দায়িত্বরত হুজুরকে জানানো হয়।’
অভিযোগ উঠা শিক্ষক হুসাইন আহমেদ বলেন, ‘পড়তে না পারায় সকালে মোহাম্মদ আলীকে বেত্রাঘাত করি। পরে বিষয়টি তাকে বুঝিয়েও বলি। পড়া না পারার বিষয়টি তার বাবাকেও জানাই। দুপুরে বাথরুমে তার লাশ দেখতে পেয়ে আমরা হতবম্ভ হয়ে যাই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যদি হত্যা করে থাকি তাহলে সিসি ক্যামেরাতেই সেটা ধরা পড়বে।’
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম