
মোঃ রেজাউল করিম, পঞ্চগড় -ঃ সদর ঘাটে লঞ্চ দেখে বাড়িতে বসে আস্ত একটা বিশাল আকারের বহুতল লঞ্চ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নু রনবী নামের এক ইলেক্ট্রনিক সার্ভিসিং মেকার। প্রতিদিন লঞ্চটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ভিড় করছেন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও।

নুরনবী ইসলাম পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত.এমতাজ আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রনিক্স সার্ভিসিং মেকার। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারলেও মাধ্যমিকে পড়ার সুযোগ হয়নি। দীর্ঘদিন ছিলেন বরিশালে। সেখান থেকে সদরঘাট ফেরিতে আসার সময় আশ্চর্য হয়ে দেখতেন বহুতল লঞ্চ। কিভাবে এমন একটা লঞ্চ বানাতে পারবেন এমনই ছিল স্বপ্ন। এ কারণে ঘুরে ঘুরে দেখতেন কিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা করলেন লঞ্চ বানাবেন। তাই বাড়িতে এসে শুরু করলেন লঞ্চ বানানোর কাজ্। লঞ্চ নির্মাণের উপকরণ হিসেবে মোটর, ককসিট, লাইটিং ও ব্যাটারি সংগ্রহ করেন। মেধা খাটিয়ে তিন মাসের মধ্যে বানিয়ে ফেললেন আস্ত এক বহুতল লঞ্চ। লঞ্চটি তৈরি করতে ব্যবহার করেছেন ককসিট, ব্যাটারি চালিত মোটর, ম্যাজিক লাইট এবং গাম। দিয়েছেন আলোকসজ্জা ও মিউজিক বাতি। অভ্যন্তরে রেখেছেন মাস্টার কেবিন, যাত্রী কেবিন। এ লঞ্চ তৈরি করতে তার হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। সময় লেগেছে তিনমাসের মতো। লঞ্চটির নাম দিয়েছেন ‘মেসার্স পাভেল শিপিং লাইন্স’।
জেলার দেবীগঞ্জের সুন্দরদিঘীর চরপাড়া গ্রামে লঞ্চটি দেখতে গিয়ে দেখা যায়, এক নিখুঁত হাতের তৈরি বহুতল ভবনের লঞ্চ। যদিও খেলনা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। তবে লঞ্চটির স্থাপত্য দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছেন যে কেউ। সুন্দর দিঘীর স্কুলের পাশে পুকুরে চালানো হচ্ছে ব্যাটারি চালিত লঞ্চটি। রিমোর্ট কন্ট্রোলে লঞ্চটি ঘুরে ঘুরে নুরনবীর ফেরিতে এসে থামছে। তা দেখতে ভিড় জমাতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের।
দর্শনার্থীরা বলছেন, এরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন মেধাবী যুবক রয়েছে জানা ছিল না। যে কীনা অভিজ্ঞতা ছাড়াই লঞ্চ বানাতে পারে।
লঞ্চটির নির্মাতা নুর নবী ইসলাম বলেন, আমি বরিশালে ছিলাম। সেখান থেকে সদরঘাটে যাওয়া আসার সময় লঞ্চ দেখতাম আর স্বপ্ন দেখতাম এরকম লঞ্চ আমিও বানাতে চাই। সে পরিকল্পনা থেকেই বাড়িতে এসে মাত্র তিন মাসে উপকরণ হিসেবে ককসিট, ব্যাটারি, মোটর, ম্যাজিক লাইট, গাম সংগ্রহ করে নির্মাণ করতে পেরেছি। যদিও এটা খেলনা হিসেবে তৈরি করেছি। এখন দেখছি এটা দেখতে প্রচুর লোকজন ভিড় করছেন। ভালো লাগছে, আরও উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। আমার তো আর্থিক ভালো নয়, অর্থ হলে আরও ভালো কিছু করতে পারবো।
স্থানীয় তরুণ মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্ববোধ করছি যে আমাদের এ প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ভাই দুই/তিন মাস পরিশ্রম করে এরকম একটা লঞ্চ বানিয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপন করবে তা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। খুব ভালো লাগছে। তাই সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এরকম একটা ট্যালেন্টকে আর্থিক সহযোগিতা করলে হয়তো সে আরও নতুন নতুন আবিস্কার করতে পারবে। একই কথা বলেন স্থানীয় যুবক শাহ আলমগীর ও মুরব্বী ইমাম হোসেন।
সুন্দরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদসহ কয়েকজন বলেন, এলাকায় নুরনবী আংকেলের তৈরি লঞ্চ দেখে খুব আনন্দ লাগছে। এটা দেখে আমরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আমরাও চেষ্টা করবো এরকম ভেবে কিছু করার।
সুন্দর দিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান আব্দুল হালিম জানান, আমার এলাকায় লঞ্চ বানিয়ে দেখানো দেখে মনে হয়েছে আমাদের ছেলেরা অনেক কিছু করতে পারে। তাই এসব মেধাবীদের মেধার মূল্যায়ন করা উচিত। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সে যদি কোন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে তার মেধার মূল্যায়ন করা যায়, তাহলে সে দেশ ও জাতির জন্য আরও কিছু করতে পারে। তার দিকে নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম