
রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার তেতুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুলকে ফাঁসিয়ে বসে আনতে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ইউপি নির্বাচনে কামরুলের কাছে পরাজিত হবার পর থেকে প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার করেই চলেছেন। কিন্ত্ত কোনো কিছুতেই কামরুলকে বসে আনতে ব্যর্থ হয়ে এবার তার বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, ইউপির পারিলা গ্রামের চিহ্নিত মাদকাসক্ত বিদ্যুৎ হোসেন, গত ১০ জুলাই কোরবানি ঈদের দিন সাবাই বাজারে মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি করছিল। ব্যবসায়ীদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রাম পুলিশ তাকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল তাকে পুলিশে দেবার কথা বলেন। একথা শোনা মাত্র গ্রাম পুলিশের হাত থেকে ছিটকে দৌড়ে পালাতে গিয়ে পরিষদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যায় বিদ্যুৎ। এতে ভেঙে যায় তাঁর ডান হাত। এ সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। অথচ প্রতিপক্ষ এই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে চেয়ারম্যান কামরুলকে ফাঁসাতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে তাকে দিযে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে সাজানো মামলা করানো হয়।
অন্যদিকে গত ১০ জুলাই সাবাই বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে বিদ্যুৎ হোসেনকে পরিষদে ধরে এনে রড দিয়ে পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়ার কথিত অভিযোগে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন বিদ্যুৎ। আদালত মামলাটি মান্দা থানার ওসিকে রেকর্ডভূক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সুত্র জানায়, বিদ্যুৎ হোসেন বাদি হয়ে প্রথমে থানায় অভিযোগ দেন। কিন্ত্ত তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না থাকায় থানা মামলা গ্রহণ করেনি।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন চেয়ারম্যান তাকে কেনো মারপিট করবে, আবার একজন চেয়ারম্যান কি কাউকে পরিষদে ডেকে এনে মারপিট করতে পারে, চেয়ারম্যান যদি মারপিট করতেই চাই, তাহলে তার লোকজন দিয়ে বাজারেই মারপিট করাতে পারতেন, এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, তার অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তো তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে পেটানোর দাগ থাকার কথা, সেটাতো নাই, আবার হাতের ভাঙ্গা স্থানে আঁচড়ের আছে, যেটা পাকা দেয়ালে লাগার ক্ষত। চেয়ারম্যান একজন স্বজ্জন মানুষ, এর আগে তার বিরুদ্ধে কেউ এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ দিতে পারবেন না। আসলে প্রতিপক্ষের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের কুপরামর্শে বিদ্যুৎ হোসেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা করেছেন বলে মনে করছেন ইউপির সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মান্দা উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরাম সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও ভারশোঁ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, মামলার বাদী পানিয়াল গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেন এলাকার চিহ্নিত একজন মাদকসেবী। গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদের দিন সাবাই বাজার থেকে মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যুৎ হোসেনকে গ্রাম পুলিশ পরিষদে নিয়ে আসেন। চেয়ারম্যান সুমন আরও বলেন, পরিষদে চেয়ারম্যান কামরুলসহ কয়েকজন সদস্যেকে দেখে গ্রাম পুলিশের হাত থেকে ছিটকে পালানোর চেষ্টা করেন বিদ্যুৎ হোসেন। এ সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে পরিষদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান। এতে ভেঙে যায় তাঁর ডান হাত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকসেবনেরও একাধিক মামলা রয়েছে। কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, এলাকার চিহ্নিত একজন মাদকসেবীকে শাসন করতে গিয়ে মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল। ষড়যন্ত্রমুলক এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এ সময় মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম, ক্যাশিয়ার আবদুল মতিন ম-ল, পরানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান উজ্জল, গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী, মৈনম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওফেল আলী ম-ল, কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক বিষয় নিয়ে পরিষদের গ্রামআদালতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছিলাম। মামলার ফি’র কথা বলে উভয়পক্ষের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন চেয়ারম্যানের লোকজন। এ কথা প্রকাশ করে দেওয়ায় চেয়ারম্যান কামরুল আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন। জের ধরে কোরবানির ঈদের দিন পরিষদে ধরে এনে রড দিয়ে পিটিয়ে তার ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম