
মোঃ সামছুদ্দিন লিটন, প্রতিনিধি নোয়াখালী -ঃ নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সেজে ভর্তি এক নারী (২৪) রোগীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মঞ্জুরুল হায়দার জনি (৩৫) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অপরাধী চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার (২২ জুলাই) অভিযোগের বিষয়টি সাংবাদিকদেরকে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্তে হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. তানজিনা হককে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শহীদুল আহমেদ নয়ন, ডা. ইকরাম বিন ফারুক ও নার্সিং সুপারভাইজার আয়েশা আক্তার।কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী রোগী বলেন, প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে গত বুধবারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে ১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলাম । হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করি।
এরপর বুধবার (২০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় মঞ্জুরুল হায়দার জনি নামের ওই বখাটে চিকিৎসক সেজে আমার কেবিনে আসেন। তিনি আমার শরীর ঘামছে দেখে কেবিনে থাকা আমার ভাই ও বোনকে গামছা জামা (গেঞ্জি) কেনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি আমার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে হেনস্তা করেন, এক পর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি চিৎকার দিতে চাইলে তিনি গলাটিপে হত্যা করবেন বলে হুমকি দেয়।
ওই নারীর সঙ্গে থাকা তার বোন সাংবাদিকদেরকে বলেন, পরদিনই চাটখিল উপজেলা (সরকারী) হাসপাতাল থেকে আমার বোনকে ঢাকায় স্থানান্তর করে নিয়ে আসি। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরও বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা চলছে। আমরা বিষয়টি স্থানীয় সদস্য সদস্য এইচএম ইব্রাহীমকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত মঞ্জুরুল হায়দার জনি চাটখিলে বসবাসকারী মৃত শাহাদাত উল্যাহর ছেলে এবং ওই হাসপাতালের উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (সেকমো) মনিরুল হায়দার মনিরের ভাই।
এ বিষয়ে সেকমো মনিরুল হায়দার সাংবাদিকদেরকে বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে ডিউটি শেষ করে বাড়ী চলে যাই পরে বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তার আরেক বড়ো ভাই হায়দার ফার্মেসির মালিক মফিজুল হায়দার।
হাসপাতালে সামনে ‘হায়দার ফার্মেসি’ নামে তাদের একটি ওষুধে দোকান রয়েছে। জনি চাটখিল বাজারে হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহীম সাংবাদিকদেরকে বলেন, বিষয়টি ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ শোনার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ দিতে না চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে বাদী করে মামলা রুজু করতে বলা হয়েছে।
চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, খবর পেয়ে অভিযোগকৃত হাসপাতালে গেছি, কিন্তু রোগীর লোকজন লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় সেদিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শহীদুল আহমেদ নয়ন বলেন, রোগীকে হেনস্তার বিষয়ে তদন্ত চলছে। রোগীর সাথে বহিরাগত ব্যক্তি এমন হিনআচরণ করেছে তার বিরুদ্ধে আইনি-ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ডাক্তার তাহমিনা আক্তার অভিযোগ দায়ের করছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম