
মোঃ আদম আলী, নিজস্ব সংবাদদাতা -ঃ
১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলে চেয়ারম্যান এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সংলাপ করে নির্বাচন কমিশনের সাথে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়ালসহ নির্বাচন কশিমনারবৃন্দ ও নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ূন কবির সংলাপে অংশ গ্রহন করেন।
সংলাপশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্পন্নের জন্য কমিশন যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে তার জন্য বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। ফলে দেশের প্রতিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে। এই সংলাপের মাধ্যমে আশা করা যায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরী হবে।
সংবিধানে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বাস্তবতার নিরীখে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সর্বজন গ্রহনযোগ্য আইন প্রণয়ন করতে উদ্যোগ গ্রহন করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। উক্তরূপ আইনের একটি খসড়া কমিশনকে প্রদান করেছে দলটি।
ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সংশোধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় কার্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্পন্ন করা এবং ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সরবরাহকৃত তথ্য অনুসারে জাতীয় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। এছাড়াও সকল প্রকার নির্বাচনকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করতে এবং পরিচালনার দায়িত্ব এককভাবে নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যাস্ত করতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের সকল প্রকার প্রচারণা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা অনুসারে করার কথা বলা হয়েছে ৯ দফায়।
প্রস্তাবিত নয় দফায় আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ ছুটি ঘোষণা করতে হবে এবং সকল প্রকার অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। ভোট চলাকালিন সময়ে দলীয় ক্যাম্প স্থাপন পরিচালনা, ভোটারবাহী পরিবহন ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইলেক্ট্রোরাল ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ব্যাপারে বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইভিএম-এর অবস্থান ও পরিচালনায় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে এবং ভোট প্রদানের পর প্রতীকসহ মুদ্রিত টোকেন প্রদান পদ্ধতি চালু করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটার উক্ত টোকেনের কপি নির্ধারিত বাক্সে ফেলবেন যা সংরক্ষণ করতে হবে এবং মেশিনে প্রাপ্ত ভোট সংখ্যার সাথে মিলিয়ে ফলাফল ঘোষণা করতে হইবে। তবে বাংলাদেশ কংগ্রেস ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহনকে নিরুৎসাহিত করেছে এবং ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট গ্রহনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাস পূর্বে নির্বাচন কমিশন উক্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে এবং তফসিল ঘোষণার পর হতে যাতে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ কার্যকর না থাকে সে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলটি বলেছে, নির্বাচনকালিন সরকারের স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়া দরকার।
প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ গ্রহনকারী বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এ্যাডঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল মোর্শেদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ তুষার রহমান এবং দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ন্যাশনাল সিনেটের সদস্য এ্যাডঃ মোঃ মিজানুর রহমান, এ্যাডঃ দেবদাস সরকার, এ্যাডঃ জিয়াউর রশীদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, নাজমুল হক বাদল, এম এ মুঈদ হোসেন খান (আরিফ) ও নিলুফার সুলতানা।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম