
টি আই. মাহামুদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি -ঃ বান্দরবানের থানছি ও আলীকদম উপজেলায় নৌ-মন্ত্রনালয়ের অধীনে স্থল বন্দর স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।


বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের আলীকদম কিংবা থানচি উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মিয়ানমারের কালাদান প্রকল্পের দালেতেমে কিংবা পালেতা পর্যন্ত একটি সড়ক পথ করার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ সড়কের মাধ্যমে মিয়ানমারের বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে একটি প্রকল্প বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়েছে।

লামা-আলীকদম প্রবেশপথ নির্ধারণ জটিলতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ আটকে আছে। মিয়ানমার এখনো তাদের সীমান্তে স্থান ঠিক করতে না পারায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ সীমান্তের বান্দরবান জেলার থানচি ও আলীকদমে এ বন্দর স্থাপন হবে।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর একনেক সভায় প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের মধ্যে সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত হবে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন পথ। এই বন্দরের মাধ্যমে সড়ক পথে সহজে কম সময়ে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে স্থলবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এর আগে আরো দশটি স্থলবন্দর স্থাপন হয়েছে। বান্দরবান জেলার আলীকদম ও থানছি সীমান্তে বন্দর স্থাপন করা হলে বন্দরের সংখ্যা হবে ১২টি। এটির কার্যক্রম শুরু হলে দুটি দেশের মধ্যে বৈধ পথে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে। সরকারের রাজস্ব আয় দ্বিগুণ হবে বলে জানান নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।
নৌ-মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সড়ক পথে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রবেশপথ নির্ধারণের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ তার মন্ত্রণালয় হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক সংক্রান্ত কার্যক্রম রয়েছে। এখানে হুট করে কিছু করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তাদের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রবেশপথ ঠিক হলেও মিয়ানমার কোন পথটি বন্দরের জন্য ঠিক করবে তা আজও নির্ধারণ হয়নি। ফলে প্রকল্পের কার্যপরিধি চূড়ান্তে বিলম্ব হচ্ছে। নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে দুটি স্থলবন্দর স্থাপনের বিষয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চেয়ে গত আগস্টে সারসংক্ষেপ পাঠায় নৌ-মন্ত্রণালয়। তবে সার-সংক্ষেপে দ্বিমত পোষণ করেনি প্রধানমন্ত্রী। এর পর প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন হয়। কিন্তু প্রায় দুমাস পার হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের সীমান্তে প্রবেশপথ নির্ধারণ করতে পারেনি। তাদের স্থান নির্ধারণের ওপরই নির্ভর করছে এখন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রবেশপথ নির্ধারণ ছাড়া প্রকল্পের বিষয়ে অগ্রসর হওয়া সমীচীন হবে না। কারণ বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশপথ ঠিক করা আছে। তবে দেশটি তাদের প্রবেশপথ পরিবর্তন করলে এখানেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একার ইচ্ছাতে এটা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। কারণ এনবিআরের একটি অংশ জড়িয়ে রয়েছে বন্দরের সঙ্গে। দুটি দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন শুরু হলে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ ছাড়া এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রবেশপথ নির্ধারণ জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে স্থলবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের কাজটিও পিছিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌ-মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে ১০টি স্থলবন্দর চালু আছে। এর মধ্যে ৯টির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়। একমাত্র টেকনাফ স্থলবন্দর মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি স্থলবন্দর হলেও মূলত নাফ নদী দিয়ে নৌপথে মালামাল আমদানি-রপ্তানি হয়। এভাবে মাল পরিবহন করায় খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগছে। এ অবস্থায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ ও দ্রুত করতে মূলত স্থলবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রবেশপথ জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আটকা পড়েছে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম