
জাকির হোসেন, পবা প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর পবা উপজেলার ২নং হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আফি নেপাল পাড়া গ্রামের শেষ এরিয়া ঘিরে গোলাপ ও গাদা ফুলের চাষ করছেন জনি ইসলাম নামের এক কৃষক। আর এই বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।
শুধু স্থানীয় নয় বাগানটিকে এক নজর দেখার জন্য বা একটি সেলফি তোলার জন্য প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। এমনকি ভিন্নজেলা থেকেও অনেকেই ঘুরতে আসছেন এখানে। ইতোমধ্যে আফি নেপাল পাড়ার ভ্রমণ-জ্বীনের বাড়ি, সাপের খামার, ও লাল হলুদের গোলাপ ও গাদার ফুলের বাগান মানুষের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে ।
কৃষি অধিদফতর রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর সকল কৃষককে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশে একটু সময় কাটানোর জন্য আর হাজার হাজার গোলাপ গাদা ফুলের হাসির ঝিলিক দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক জনতা এসে ভিড় করছেন।
গোলাপ ও গাদা ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা এতই বেশি যে তাদের অবাধ বিচরণে হুমকিতে পড়েছে বাগানটি। এতে বিপাকে পড়েছেন মালিক পক্ষ। অনেকেই ছবি তোলার জন্য ঢুকে পড়ছেন বাগানের ভেতর। ফুলের চেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা।দর্শনার্থীদের অবাধ চলাফেরায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাছ ও ফুল। কেউ কেউ জোর করে ছিঁড়ে নিচ্ছেন ফুল, আবার কেউ নিতে চান আস্ত গাছ।
ফসলের মাঠের মাঝখানে গোলাপ ও গাদা ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ ও লাল বর্ণের গাদা ও গোলাপ ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বাগানটি এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
গোলাপ ও গাদা ফুল বাগানের দেখতে আসা দর্শনার্থী মোঃতাইজুল ইসলাম বলেন, আসলে একসঙ্গে এতগুলো গোলাপ ও গাদা ফুল আগে কখনো দেখা হয়নি। তাছাড়া পবায় গোলাপ ও গাদার বাগান আগে কখনও আমি দেখিনি তাই এখানে ছুটে আসা।
পাপ্পু নামের আরেকজন দর্শনার্থী জানান, আমি ঢাকায় থাকি। কিছুদিন ধরে আমার বন্ধুবান্ধব এখানে এসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। সেটা আমি দেখতে পাই। আর সেখান থেকেই বাগানটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহ জন্মে। তাই বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে চলে আসি।
নাসির ও লাবু নামের দুইজন দর্শনার্থী জানান, এই গোলাপ ও গাদা ফুলের বাগানটি মানুষের নজরে আসছে। তাই আমরাও সৌন্দর্য উপভোগ করতে সবাই মিলে দেখতে এসেছি। খুব ভালো লাগলো। পরিবেশটা খুব সুন্দর।
বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জনি ইসলাম জানান দর্শনার্থীদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে এখন বাগানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি সারাদিন এখানেই পড়ে থাকি। কারণ দর্শনার্থীরা অনেক সময় ভেতরে ঢুকে গাছ এবং ফুল দুটোই নষ্ট করে। প্রতিদিন একশো থেকে দুইশো মানুষ আসে এবং প্রতি ঈঁদে প্রায় ১ থেকে২ হাজার মানুষ এখানে আসে। এত মানুষ সামাল দেয়া আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজ জানান, প্রক্রিয়াজাতকরণে জটিলতা থাকায় পবার গোলাপ ও গাদা চাষ করতে আগ্রহী না কৃষকরা। তাই গোলাপ ও গাদা চাষ পবায় খুব বেশি না হওয়ায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা একটু বেশি। কৃষকের ক্ষতি না করে এবং বাগান নষ্ট না করে ছবি তোলা এবং আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ের কারণে বাগানের সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। আগত দর্শনার্থীরা যদি আরেকটু সচেতন হন তাহলে গোলাপ ও গাদা তার সৌন্দর্য ফিরে পাবে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম