
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশ (চসিক) নির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, ভোটকে ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। তাই ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বিতরণ স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হাসানুজ্জামান বলেন, প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি, ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ৭ হাজার ৭৭২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। থাকবে র্যাবের ৪১টি টিমও। এ ছাড়া পুলিশের রিজার্ভ টিম ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে নির্বাচনী এলাকায়।
রিটার্নিং অফিসার বলেন, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ৪১৬টি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ভাষ্য মতে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। সেখানে মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত কয়েকদিন ধরে নিরলস কাজ করেছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের তৎপরতায় নির্বাচনকে ঘিরে একীভূত হয়েছে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ভেতরে পরস্পরবিরোধী দুটো গ্রুপ। এজন্য চট্টগ্রাম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাদের ‘ভোটের দুর্গে’ বিশাল জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে।
যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা-প্রচারণার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে মেয়র এবং ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী বুধবার (২৭ জানুয়ারি)। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন লড়ছেনে এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে ক্ষমতাসীনদের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী।
অপর দিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ধানের শীষের এজেন্ট গ্রেফতার করে একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে সরকার।’
তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, নির্বাচনের একদিন আগে এজেন্ট গ্রেফতারের মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। একতরফা একটা ভোট ডাকাতির নির্বাচনের দিকে সরকার আবার এগিয়ে যাচ্ছে। ১২ বছরের মধ্যে তাদের ইতিহাসে একটি রেকর্ডও নেই সুষ্ঠু নির্বাচন করার। সম্ভবত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনটিও সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হয়তোবা ভোট ডাকাতির আরেকটি নির্বাচন আমরা দেখতে পাব।’
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহের পরিবেশ এবং গত দুদিন যেভাবে আমার এজেন্টদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে— আওয়ামী লীগ পরাজয়ের ভয়ে খুবই ভীত। তারা জনগণকে বিশ্বাসই করতে পারছে না। তারা হয়তো সন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অতিউৎসাহী কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে আবারও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণ রাজপথে আছে। তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আমরা ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনগণ আগামীকাল যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে আমরাই জয়ী হবো।’
এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) এক রাতেই নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ৫৬ নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেফতারের অভিযোগ জমা দেন ডা. শাহাদাত।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিনা কারণে গ্রেফতার এবং তাদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ২৫ জানুয়ারি রাত থেকে আজ ২৬ জানুয়ারি ভোর পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ৫৬ নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বায়েজিদ এলাকা থেকে ১৭ জন, বাকলিয়া এলাকা থেকে ১২, কোতোয়ালি এলাকা থেকে ছয় ও পতেঙ্গা এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এজেন্টরা নির্বাচনের একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ। নির্বাচনী এজেন্টদের ছাড়িয়ে আনতে কমিশনকে অনুরোধ জানাচ্ছি। যদি কমিশন এতে বিফল হয় তাহলে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে আসা উচিত।
এর আগেও রোববার রাতে ২০ নেতাকর্মীসহ এক সপ্তাহে ৫৯ জনকে গ্রেফতারের অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ। আমরা আশা করছি চট্টগ্রামে কাল (বুধবার) সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য যা যা উদ্যোগ নেয়া দরকার, তা নেয়া হয়েছে।’
ঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইসি সচিব। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে দেয়া। যাতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, ভোট দিতে পারেন। কেউ যেন তাদের বাধা না দেয়। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাখা হয়েছে। সেটা তারা দায়িত্ব পালন করবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এটাই। সবার জন্য সমান সুযোগ।’
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’
একজন কমিশনার বলেছেন সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ, তার মানে হয়নি– এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘উনি কেন বলেছেন, সেটা উনিই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
চসিক নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘সেটা তো সবসময়ই থাকে। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে আমাদের জানানো হয় কোন কোন কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন তালিকা দেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন তারা সেই অনুযায়ী সেসব কেন্দ্রে বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেন। যেগুলো সাধারণ কেন্দ্র সেখানে ১৬ জন করে দায়িত্ব পালন করবে। যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে ১৮ জন করে থাকবেন এবং সেখানে অস্ত্র বেশি থাকবে।’
চসিক নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, যত রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, তার সবটুকুই সেখানে নেয়া হয়েছে। যারা ওই এলাকার ভোটার না বা ভোটকেন্দ্রে এসে গণ্ডগোল করতে পারে— এ ধরনের কাজ যাতে না করতে পারে এজন্য শহরে প্রবেশের যে পথগুলো আছে সেখানে পুলিশি পাহারা থাকবে। যাতে ভোটার ছাড়া অন্য কোনো লোক ভোটকেন্দ্রে এসে গণ্ডগোল না করতে পারে বা ভোটকেন্দ্রের বাইরেও যাতে কোনোরকম আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি না করতে পারে। আমরা মনে করি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করার জন্য যা যা করা দরকার, সেই ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন করেছে।’
চট্টগ্রামে ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। প্রতি দুই ওয়ার্ডের জন্য একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা আমাদের কাছে দেয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে সে পরিমাণ অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং তাদের বাজেটও দেয়া হয়েছে।
<p style="text-align: center; ">কার্যালয়: ৩৯/১, বঙ্গবন্ধুএভিনিউ, খদ্দর মার্কেট (৬ষ্ঠ তলা), রুম নং- ০৩, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: ০১৭১১-১০ ৪২ ৭২, +৮৮০ ৯৬ ৩৮ ৬৭ ৩৩ ৩০, E-mail:crimeletter24@gmail.com https://www.crimeletter.com</p><p style="text-align: center; "><span style="font-family: inherit; font-weight: inherit;">সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুল হক, নির্বাহী সম্পাদক:সুরাইয়া আক্তার (সুমি)</span></p>
কপিরাইট - ক্রাইমলেটার.কম